Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

বিসিসিআই-এর আস্থায় অজিত আগরকর: ২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচকের মেয়াদ বৃদ্ধি

 ‌

Ajit-Agarkar

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে আবারও পুরনো সেনাপতির ওপরই ভরসা রাখল বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া। প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকরের চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য নবীকরণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেই যে বোর্ড এই পথে হেঁটেছে, তা স্পষ্ট। তবে সাফল্যের মুকুটে যেমন অজস্র পালক রয়েছে, তেমনই আগরকরের মেয়াদ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

আগরকরের কিছু সাহসী ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। অনেকেই তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই বিসিসিআই ম্যানেজমেন্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ডের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগরকর নিজে থেকে আবেদন করেননি। বরং নিয়ম মেনেই তাঁর মেয়াদের এই নবীকরণ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আগরকরের জমানায় ভারতীয় দল সাদা বলের ক্রিকেটে কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল। তাঁর কার্যকালেই ভারত ২০২৪ ও ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করেছে। ২০২৫ সালে জিতেছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ২০২৩ সালে একদিনের ফরম্যাটে এবং ২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপ নিজেদের দখলে রেখেছে।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হার কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি হাতছাড়া হওয়া আগরকরের নির্বাচক কমিটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। এছাড়া ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হার এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ হারও তাঁর সাফল্যের খতিয়ানে কিছুটা ম্লান করেছে।

নির্বাচক হিসেবে আগরকর বরাবরই প্রথা ভাঙতে পছন্দ করেছেন। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার টি-টোয়েন্টি অবসরের পর হার্দিক পান্ডিয়াকে এড়িয়ে সূর্যকুমার যাদবকে অধিনায়ক করা ছিল এক বিশাল চমক। পরবর্তীতে বিরাট-রোহিতের টেস্ট অবসরের পর শুবমান গিলকে টেস্ট ও ওয়ানডে দলের ব্যাটন দেওয়া এবং শ্রেয়স আইয়ার বা গিলের মতো তারকাদের বাদ দিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঈশান কিষানকে সুযোগ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলো তাঁর সাহসিকতার পরিচয় দেয়।

চুক্তি নবীকরণের পর আগরকরের সামনে এখন জোড়া চ্যালেঞ্জ। আগামী জুন মাসে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টের জন্য শক্তিশালী দল গঠন এবং তার ঠিক পরেই জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে সাদা বলের সিরিজের জন্য জয়ী কম্বিনেশন খুঁজে বের করা। সাফল্যের শীর্ষে থেকে সমালোচনার ঢেউ সামলে ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য তিনি কীভাবে নীল নকশা তৈরি করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।‌‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন