সমকালীন প্রতিবেদন : আড়াই বছর আগে এই আহমেদাবাদেই ভেঙেছিল এক লক্ষ মানুষের হৃদয়। রবিবাসরীয় রাতে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের ১ লক্ষ ৩২ হাজার দর্শকের গর্জনেই যেন সেই ক্ষতে প্রলেপ পড়ল। প্রত্যাশা ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের, কিন্তু মাঠের লড়াই হয়ে দাঁড়াল একপেশে। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে ধুলিসাৎ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখল ভারত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে টানা দু’বার এবং সব মিলিয়ে তৃতীয়বার ছোট ফরম্যাটে বিশ্বসেরার মুকুট উঠল সূর্য ব্রিগেডের মাথায়।
২০২৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫-এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ২০২৬-এর এই ট্রফি ভারতের ঘরে আসা মানেই বিশ্ব ক্রিকেটে এখন শুধুই নীল বাহিনীর একাধিপত্য। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই কিউই বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালান ভারতের দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। পাওয়ার প্লে-তেই রেকর্ড ৯২ রান তুলে এক বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেন তাঁরা।
১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে অভিষেক প্রমাণ করেন বড় ম্যাচে তিনি কতটা ভয়ঙ্কর। ২১ বলে ৫২ রান করে তিনি যখন আউট হলেন, ভারত তখন রানের পাহাড়ে। অন্যদিকে, স্বপ্নের ফর্মে থাকা সঞ্জু স্যামসন ৪৬ বলে ৮৯ রানের এক রাজকীয় ইনিংস খেলেন। যদিও সেঞ্চুরি অধরা রইল, কিন্তু তাঁর ইনিংসই ভারতকে ২৫৫ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোরে পৌঁছে দেয়। তিন নম্বরে নেমে ঈশান কিষানও ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। তিনি করেন ২৫ বলে ৫৪ রান।
শেষের দিকে শিবম দুবের ৮ বলে ২৬ রানের ক্যামিও স্কোরবোর্ডকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায়। ২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেনকে মাত্র ৯ রানে দ্রুত ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন অক্ষর প্যাটেল। এরপর রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস ও মার্ক চ্যাপম্যানরা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েন।
কিউই ওপেনার টিম শেইফার্ট ৫২ রানের লড়াই করলেও ঈশান কিষানের এক বিশ্বমানের ক্যাচে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। একমাত্র মিচেল স্যান্টনার কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তিনি করেন ৩৫ বলে ৪৩ রান। কিন্তু জসপ্রীত বুমরার আগুনের গোলার মতো একেকটি ইয়র্কারের সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই শেষ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। বুমরা ৪টি এবং অক্ষর ৩টি উইকেট দখল করেন।
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা টুর্নামেন্টের শুরুতেই বলেছিলেন, "হিস্ট্রি রিপিট করেঙ্গে, হিস্ট্রি ডিফিট করেঙ্গে"। সেই মন্ত্রেই যেন কাজ হলো। প্রথম আয়োজক দেশ হিসেবে ঘরের মাঠে ট্রফি জয়ের ইতিহাস গড়া যেমন সম্ভব হলো, তেমনই ২০২৪-এর সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল।
শেষ উইকেটের পতন হতেই গ্যালারিতে উপস্থিত মহেন্দ্র সিং ধোনির মুখে দেখা গেল সেই চেনা তৃপ্তির হাসি। ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রার্থনায় আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম হয়ে উঠল টিম ইন্ডিয়ার জয়ের রাজপথ। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় দল আবারও প্রমাণ করল– বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তারাই অপরাজেয় শক্তি।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন