সমকালীন প্রতিবেদন : আনন্দের অনুষ্ঠান নিমেষেই বিষাদে পরিণত হলো। বিয়ের ভোজ খেয়ে কনে ও নববধূসহ অসুস্থ হয়ে পড়লেন উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে বাগদা থানা এলাকায়। অসুস্থদের মধ্যে ৮৪ জনকে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় একজনকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে বাগদার চ্যাঙা চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণ মুণ্ডার মেয়ে খুকুমণি মুণ্ডার সঙ্গে করঙ্গ গ্রামের যুবক ইন্দ্রজিৎ মুণ্ডার বিয়ে ছিল। ধুমধাম করে অনুষ্ঠান চলছিল। চ্যাঙা চাঁদপুর গ্রামে বরযাত্রীরা এসে পৌঁছালে কনেপক্ষের তরফে এলাহি ভোজের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই ছন্দপতন ঘটে।
রাত গড়াতেই নিমন্ত্রিতদের মধ্যে একের পর এক পেটে ব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা এবং তীব্র মাথা যন্ত্রণার উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে অসুস্থের সংখ্যা বাড়তে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয়দের তৎপরতায় অসুস্থদের দ্রুত বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই গণ-অসুস্থতার শিকার হয়েছেন খোদ নববধূ খুকুমণি মুণ্ডাও।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বাগদা হাসপাতালে ৮৪ জনকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক সুদীপ তালুকদার জানিয়েছেন, "এখনও পর্যন্ত ৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে। অধিকাংশেরই অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।"
ঘটনার খবর পেয়েই প্রশাসনিক কর্তারা হাসপাতালে পৌঁছান। আষাঢ়ু গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমনা মন্ডল ব্যক্তিগতভাবে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন এবং রোগীদের তদারকি করেন। তিনি বলেন, "আমরা দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে আছি। যে কোনো প্রয়োজনে পঞ্চায়েত সবরকম সহযোগিতা করবে।"
বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পরিতোষ সাহা জানিয়েছেন, অসুস্থের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গিয়েছে। ঠিক কোন খাবার থেকে এই বিষক্রিয়া ছড়ালো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিয়ে বাড়ির রান্নায় ব্যবহৃত জলের সমস্যা নাকি কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যবস্তু থেকে এই বিপত্তি, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন