সমকতালীন প্রতিবেদন : রবিবার আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারতীয় দল ইতিহাসের পাতায় একাধিক নজির গড়েছে। ২০০৭ ও ২০২৪ সালের পর ২০২৬-এও ট্রফি জিতে ভারত প্রথম দল হিসেবে তিনবারের বিশ্বজয়ী হয়েছে। একই সঙ্গে এটি প্রথম দল যারা পরপর দু'বার এই শিরোপা জিতল এবং নিজেদের মাটিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডও গড়ল।
ভারতীয় দল এই ফাইনালে মোট ১৯টি রেকর্ড গড়েছে, যার মধ্যে দলগত এবং ব্যক্তিগত উভয়ই রয়েছে। ভারত প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল স্কোর গড়ে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কোনও দল ফাইনালে ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। নিউজিল্যান্ড ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা ফাইনালে সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।
এই বিশ্বকাপে ভারত তিনবার ২৫০-এর বেশি রান করেছে– জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২৫৬, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫৩ এবং ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫৪ (ফাইনালে ২৫৫)। একটি বিশ্বকাপে কোনও দল এতবার ২৫০+ স্কোর গড়েনি। পুরো টুর্নামেন্টে ভারত ১০৬টি ছক্কা মেরেছে, যা এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।
ব্যক্তিগত নজিরের কথা বললে, সঞ্জু স্যামসন ফাইনালে ৮৯ রান করেন, যা বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০১৬-এ মার্লন স্যামুয়েলস ৮৫ রান করেছিলেন। সঞ্জু এই বিশ্বকাপে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন, যা এক আসরে সর্বোচ্চ (ফিন অ্যালেনের ২০ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে)। তিনি ৩২১ রান করেছেন, যা কোনও ভারতীয় ব্যাটারের এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ (বিরাট কোহলির ২০১৪-এর ৩১৯ রানের রেকর্ড ভেঙে)।
সঞ্জু শেষ তিন ম্যাচে যথাক্রমে অপরাজিত ৯৭, ৮৯ ও ৮৯ রান করেছেন, যা বিশ্বকাপে পরপর তিন ম্যাচে ৮০+ রানের দ্বিতীয় নজির (মাহেলা জয়বর্ধনে ২০১০-এ প্রথম)। অভিষেক শর্মা ফাইনালে মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতরান করেন, যা বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্রুততম। এর আগে ২০২৪-এ হাইনরিখ ক্লাসেন ২৩ বলে করেছিলেন। অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ারপ্লে-তে চারবার অর্ধশতরান করেছেন, যা বিশ্বের প্রথম।
ফাইনালে ভারতের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার– অভিষেক, সঞ্জু ও ঈশান কিশাণ–সকলেই অর্ধশতরান করেছেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম। পাওয়ারপ্লে-তে (প্রথম ৬ ওভারে) ভারত ৯২ রান করেছে বিনা উইকেটে, যা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ (২০২৪-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজও ৯২ করেছিল কিন্তু ১ উইকেট হারিয়ে)।
ওপেনিং জুটিতে অভিষেক ও সঞ্জুর ৯৮ রানের পার্টনারশিপ ফাইনালে সর্বোচ্চ (২০০৯-এ পাকিস্তানের ৪৮ রানের রেকর্ড ভেঙে)। প্রথম উইকেটে সঞ্জু ও ঈশানের ১০৫ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফাইনাল জুটি (২০১০-এ ইংল্যান্ডের ১১১ রান প্রথম)।
বোলিংয়ে জসপ্রীত বুমরাহ ফাইনালে ১৫ রানে ৪ উইকেট নেন, যা ফাইনালে দ্বিতীয় সেরা (২০১২-এ অজন্তা মেন্ডিস ১২ রানে ৪ উইকেট)। এছাড়া, গৌতম গম্ভীর প্রথম ব্যক্তি যিনি খেলোয়াড় (২০০৭) ও কোচ হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। টিম ইন্ডিয়া এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ শিখরে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন