সমকালীন প্রতিবেদন : অবসান হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার। বেজে গেল ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা। রবিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যে এবার মোট দুই দফায় ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল (১৫২টি আসন) এবং দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল (১৪২টি আসন)। আগামী ৪ মে গণনার পর জানা যাবে কার হাতে যাচ্ছে বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতা।
তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তামিলনাড়ু, অসম, কেরল এবং পুদুচেরির নাম থাকলেও বাংলা বাদে বাকি রাজ্যগুলিতে এক দফাতেই ভোট মিটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বাংলায় এবার ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ২৮ লক্ষ এবং মহিলা ভোটার ৩ কোটি ১৬ লক্ষ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ১,১৫২ জন। আঠারো-উনিশ বছর বয়সি নতুন ভোটারের সংখ্যা ৫ লক্ষ ২৩ হাজার।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন দেশজুড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটকর্মী ও সাড়ে আট লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে পর্যবেক্ষণের জন্য থাকছেন ১,৪৪৪ জন অবজার্ভার এবং ২১ হাজার সেক্টর অফিসার। ভোট ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই রাজ্যে জারি হয়ে গিয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। এর ফলে রাজ্য সরকার নতুন করে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা প্রকল্প ঘোষণা করতে পারবে না এবং সম্পূর্ণ প্রশাসন এখন থেকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত হবে।
এবারের নির্বাচনে বড় চমক ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, সংবিধানের ৩২৬ ধারা মেনে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনও বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং কোনও ভুয়ো নাম তালিকায় না থাকে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষত, বিচারাধীন বন্দিরাও এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পারবেন। তবে রাজ্যে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় ৬০ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি ভোটের আগে সম্ভব কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এবার কোনও ভোটার বুথের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। বুথের বাইরে মোবাইল রাখার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর ভোটদানের হার জানাতে হবে। এছাড়া প্রত্যেক বুথ কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে সচিত্র পরিচয়পত্র পরিধান করতে হবে।
২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবারও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। ২০২১ সালের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা ২১৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল। অন্যদিকে, পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘বিকশিত বাংলা’র ডাক দিয়েছেন। কংগ্রেস এবার একাই ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, তবে বামেদের জোট বা কৌশল নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
আগামী ৭ মে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। বিগত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার বঙ্গে ভোটের দফার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন