সমকালীন প্রতিবেদন : সরকারি অনুমতি ছাড়াই শ’য়ে শ’য়ে গাছ কেটে সাফ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক মৎস্য সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। বনগাঁ থানার গ্যাঁড়াপোতা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কুন্দিপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দিনভর চলল তীব্র রাজনৈতিক টানাপড়েন। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল পরিচালিত ‘কুন্দিপুর ফিশারম্যান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’-এর দিকে। খবর পেয়ে বনদপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুন্দিপুর বাওড় সংলগ্ন গোবিন্দপুর এলাকায় গত কয়েকদিন ধরেই গাছ কাটার কাজ চলছিল। রবিবার সকালে গ্রামবাসীরা দেখেন, বিশালাকার বেশ কিছু গাছ কেটে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংসের এই চিত্র দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা গাছ কাটায় বাধা দেন এবং বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, বাওড়ের পাড়ে থাকা কয়েকশো পুরনো গাছ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সমবায় সমিতির নির্দেশে কেটে ফেলা হয়েছে। বিজেপির জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, "তৃণমূল আশ্রিত সমবায় সমিতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কয়েক কোটি টাকার কাঠ চুরির মতলব করেছে। সরকারি কোনও অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করা হয়েছে।"
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কুন্দিপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সম্পাদক। তাঁর পাল্টা দাবি, "বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। সমবায়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এই পদক্ষেপ, এখানে কোনও অনিয়ম হয়নি।"
খবর পেয়ে বনগাঁ বনদপ্তরের আধিকারিকরা কুন্দিপুরে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। প্রাথমিক তদন্তের পর বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৫০টির বেশি গাছ ইতিপূর্বেই কেটে ফেলা হয়েছে এবং আরও বহু গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, "এই গাছগুলি কাটার জন্য বনদপ্তরের কাছ থেকে আগাম কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বনদপ্তরের নজরদারিতে গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত সমবায় সমিতি বনাম বিজেপির এই দ্বৈরথে কুন্দিপুর গ্রাম এখন সরগরম। পরিবেশ রক্ষার দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষও। বাওড় সংলগ্ন বাস্তুসংস্থান রক্ষায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন