সমকালীন প্রতিবেদন : বিশ্বকাপের আবহে ব্যক্তিগত জীবনে গভীর শোকের মুখে পড়েছেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা ক্রিকেটার রিঙ্কু সিং। দীর্ঘদিন চতুর্থ পর্যায়ের লিভার ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর শুক্রবার প্রয়াত হয়েছেন তাঁর বাবা খানচন্দ্র সিং। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে রিঙ্কু আলিগড়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
আলিগড়ে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করতেন খানচন্দ্র সিং। গাড়ি করে বাড়ি বাড়ি সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর জীবিকা। সীমিত আয়ের সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন নিত্যসঙ্গী ছিল। রিঙ্কুর এক ভাই অটোচালক, অন্য এক ভাই কোচিং সেন্টারে কাজ করতেন। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি রিঙ্কুকেও এক সময় ঝাড়ুদারের কাজ করতে হয়েছে সংসারের হাল ধরতে।
তবু অভাব তাঁদের স্বপ্ন ভাঙতে পারেনি। ছেলের ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ বুঝে সামর্থ্য মতো পাশে থেকেছেন বাবা। কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেও অনুশীলন, সরঞ্জাম ও যাতায়াতে সহায়তা করে গিয়েছেন নিরন্তর। সেই ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল মিলতে শুরু করে দুই হাজার সতেরো সালে, যখন পাঞ্জাবের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে সুযোগ পান রিঙ্কু। পরের বছর কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে দলে নেয় উল্লেখযোগ্য অঙ্কে। এরপর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে রিঙ্কু জানিয়েছিলেন, প্রথম মরশুমের পারিশ্রমিক দিয়েই বাবার ঋণ শোধ করার ইচ্ছে ছিল তাঁর। কথামতো পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দেন তিনি। ধীরে ধীরে জাতীয় দলেও জায়গা পাকা করেন। আলিগড়ের ছোট ঘর ছেড়ে এখন প্রাসাদোপম বাড়ি, স্বচ্ছল জীবন– সবই এসেছে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরে।
এক সময় যিনি সংসার চালাতে ঝাড়ুদারের কাজ করেছেন, আজ সেই রিঙ্কুই বহু কোটির সম্পদের মালিক। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে বাবার সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অদম্য মানসিক শক্তিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রেরণা।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন