সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় বায়ুসেনার ক্ষমতা আরও বাড়াতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (ডিএসি)। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার হওয়া বৈঠকে প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার এই প্রস্তাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে সাউথ ব্লক সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয়চুক্তি হতে চলেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল। রাফালের পাশাপাশি ৬টি পি-৮আই সমুদ্র টহলদারি বিমান কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন মিলেছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১৪টির মধ্যে ৮৮টি সিঙ্গল-সিটার ও ২৬টি টু-সিটার রাফাল কেনা হবে। প্রথম দফায় ১৮টি বিমান সম্পূর্ণ প্রস্তুত (‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায়) ফ্রান্স থেকে ভারতে আনা হবে। বাকি ৯৬টি দেশে সংযোজন ও উৎপাদনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় মোট উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ ভারতেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশীয় উপাদানের ব্যবহার ধাপে ধাপে ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন ভারতীয় বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদনে অংশ নেবে বলে জানা গিয়েছে। এতে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ভারতীয় বায়ুসেনার অনুমোদিত স্কোয়াড্রন সংখ্যা ৪২ হলেও বর্তমানে কার্যকর রয়েছে প্রায় ২৯-৩২টি স্কোয়াড্রন। মিগ-২১ ও মিগ-২৩ ধাপে ধাপে অবসর নেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিমানের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ জরুরি হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে বায়ুসেনার হাতে রয়েছে ৩৬টি রাফাল ‘সি’ ভ্যারিয়েন্ট, যার শেষ ডেলিভারি হয়েছে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এই বিমানগুলি আম্বালার ১৭ নম্বর ‘গোল্ডেন অ্যারোজ’ এবং হাসিমারার ১০১ নম্বর ‘ফ্যালকনস’ স্কোয়াড্রনে অন্তর্ভুক্ত। নতুন চুক্তি কার্যকর হলে রাফালের বহর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এক দশক আগে বায়ুসেনা ১২৬টি যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৬টি রাফাল কেনা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যালের ‘তেজস মার্ক-১এ’ নির্ধারিত সময়সীমায় সরবরাহ না হওয়ায় যুদ্ধবিমান ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সঙ্গে পুরনো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করে দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল ‘এম’ ভ্যারিয়েন্ট কেনার চুক্তিও ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে, ১১৪ রাফাল কেনার প্রস্তাবে ডিএসি-র ছাড়পত্র ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আকাশ প্রতিরক্ষায় ভারতের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন