Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাক ম্যাচ না হলে বড় আর্থিক ক্ষতি পাকিস্তানের

 

Financial-losses-for-Pakistan

সমকালীন প্রতিবেদন : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড়সড় আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্ব ক্রিকেট। পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শুধু ক্রিকেটীয় উত্তেজনাই নয়, বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি।

ক্রিকেট মহলের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে মোট ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়াবে প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকা। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সব দিক মিলিয়েই এই হিসাব। বিশ্ব ক্রিকেটে একটিমাত্র ম্যাচের আর্থিক মূল্য এত বেশি, এমন নজির নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বছরে যত টাকা আয় করে, একটি ভারত–পাক ম্যাচ বাতিল হলে তার প্রায় ১৫ গুণ ক্ষতি হবে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে সম্প্রচারকারী সংস্থার উপর। শুধু সম্প্রচারকারী চ্যানেলের ক্ষতির পরিমাণই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বলে অনুমান। আইসিসি প্রতিযোগিতায় ভারত–পাক ম্যাচ মানেই সর্বোচ্চ আকর্ষণ। সেই ম্যাচ চলাকালীন ১০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের দাম ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ওঠে। কিন্তু ম্যাচ না হলে সেই আয় একেবারেই মিলবে না। সাধারণ ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য যেখানে ১৩৮ কোটি টাকা দিতে হয়, সেখানে ভারত–পাক ম্যাচের আর্থিক গুরুত্ব অনেক বেশি।

এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উপরেও। আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচারকারী সংস্থা জিয়োহটস্টারের ২৭,০৭৬ কোটি টাকার চুক্তি রয়েছে। ভারত–পাক ম্যাচ বাতিল হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে। জানা গিয়েছে, জিয়োহটস্টার ইতিমধ্যেই আইসিসির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পাকিস্তান যদি নকআউট বা ভবিষ্যতের আইসিসি প্রতিযোগিতাতেও ভারতের ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

আইসিসি এই আর্থিক ক্ষতি মেনে নিতে রাজি নয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সঙ্গে করা পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, নির্ধারিত ম্যাচ না খেললে সেটি চুক্তিভঙ্গ হিসেবে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশগুলিকে যে বার্ষিক লভ্যাংশ দেয়, তা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা। 

বর্তমানে আইসিসি থেকে বছরে প্রায় ৩২০ কোটি টাকা পায় পাক বোর্ড, যা তাদের মূল আয়ের উৎস। অর্থাৎ, একটি ম্যাচ বয়কট করলেই বার্ষিক আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।ক্রিকেটীয় দিক থেকেও ক্ষতি কম নয়। ম্যাচ না হলে ভারত পাবে পুরো দুই পয়েন্ট, প্রভাব পড়বে পাকিস্তানের নেট রানরেটেও। যদিও ভারতের আর্থিক ক্ষতি আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা হলেও বিসিসিআইয়ের ক্ষেত্রে তা বড় ধাক্কা নয়। 

কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য সেটি ভয়াবহ হতে পারে। আইসিসি এখনও পর্যন্ত পাক বোর্ডের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বয়কট ইমেল পায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা আরও বেড়েছে। আইসিসির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ও বোর্ডের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে এখন বিশ্ব ক্রিকেট। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সিদ্ধান্তে অটল থাকলে, নির্বাসন পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে আইসিসি– এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।‌‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন