২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নামতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের মতো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তৎপরতা থেকেই সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। তারই অঙ্গ হিসেবে ভোটের মুখে রাজ্য কমিটিকে ঢেলে সাজানো হল। নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, বদল এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র করা হয়েছে দেবজিৎ সরকারকে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মন এবং অগ্নিমিত্রা পাল।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে রাজ্য কমিটিতে শুধু জায়গাই দেওয়া হয়নি, তাঁকে রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। তবে ২০১৯ সালে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে এবারও রাজ্য কমিটির বাইরে রাখা হল। অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও দীপক বর্মন– তিন জনই আগে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এবার তাঁদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মনোজ টিজ্ঞাকেও সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
নয়া কমিটিতে পুরনোদের মধ্যেও কয়েকজনের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম তনুজা চক্রবর্তী। একসময় বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী থাকা তনুজাকে দীর্ঘদিন কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে তাঁর পুনর্বাসন ঘটল, তাঁকেও রাজ্য সহ-সভাপতির পদে আনা হয়েছে। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালও সহ-সভাপতি হয়েছেন।
পাঁচ সাধারণ সম্পাদক পদের মধ্যেও একাধিক বদল হয়েছে। লকেট চট্টোপাধ্যায় ও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। নতুন মুখ হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে এসেছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং শশী অগ্নিহোত্রী। সহ-সভাপতি পদে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তাপস রায় ও নিশীথ প্রামাণিক। মোর্চা স্তরেও পরিবর্তন হয়েছে। যুব মোর্চায় ইন্দ্রনীল খান এবং মহিলা মোর্চায় ফাল্গুনী পাত্র অপরিবর্তিত থাকলেও, এসটি মোর্চার দায়িত্বে আনা হয়েছে খগেন মুর্মুকে এবং কিষাণ মোর্চায় রাজীব ভৌমিককে।
গত বছরের জুলাইয়ে রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন শমীক ভট্টাচার্য। দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্য কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও আদি-নব্য কোন্দলের জেরে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ভোটের মুখে ৩৫ জনের রাজ্য কমিটি প্রকাশিত হল। প্রত্যাশা অনুযায়ী, এই কমিটিতে পুরনোদের আধিক্য থাকলেও কয়েকজন নতুন মুখকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। ৩৫ জনের কমিটিতে মহিলা সদস্যের সংখ্যা ৭, অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি মেনে এবছর রাজ্য কমিটিতে কোনও বিধায়ককে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী পূর্ববর্তী কমিটিতে থাকা ছ’জন বিধায়কের মধ্যে পাঁচ জনই বাদ পড়েছেন। তাঁরা হলেন গোপাল চন্দ্র সাহা, গৌরী শঙ্কর ঘোষ, অশোক দিন্দা, লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এবং বিমান ঘোষ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে নবগঠিত রাজ্য কমিটিতে রাখা হয়েছে।
এই তালিকা প্রকাশের প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে জল্পনাও বেড়েছে। কয়েক দিন আগেই রাজ্য সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফের সক্রিয় ভূমিকায় নামার বার্তা দেন। এরপর মঙ্গলবার রানাঘাটে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’-য় উপস্থিত ছিলেন দিলীপ। এমনকি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতেও তাঁর ছবি-সহ ‘Bengal Tiger is Back’ লেখা পোস্টার নজরে আসে। ফলে অনুগামীরা মনে করেছিলেন, তিনি ফের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন। তবে নতুন রাজ্য কমিটিতে তাঁর নাম না থাকায় সমর্থকদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন