সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ পর্ব শেষে অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সবুজ সংকেত পেলেন শ্রেয়স আইয়ার। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার সেন্টার অফ এক্সেলেন্স থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাড়পত্র মিলেছে তাঁর। ফলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে ভারতের জার্সিতে মাঠে নামতে আর কোনও বাধা রইল না ৩১ বছরের মিডল-অর্ডার ব্যাটারের।
গত বছরের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিডনিতে তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে গিয়ে গুরুতর চোট পান শ্রেয়স। ফিল্ডিং করার সময় বুকে আঘাত লেগে তাঁর প্লীহায় চোট লাগে। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। সেই চোটের জেরে অন্তত তিন মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মাত্র দু’মাসের মধ্যেই ফিট হয়ে ওঠেন তিনি।
চোট সারানোর পর বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পর্ব চলে শ্রেয়সের। সেখানে ‘রিটার্ন টু প্লে’ ম্যাচ সিমুলেশনেও অংশ নেন তিনি। ৫০ ওভারের ম্যাচের ধকল নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল মেডিক্যাল টিমের। সেই পরীক্ষাতেই পুরোপুরি উত্তীর্ণ হয়েছেন শ্রেয়স।
ফিটনেসের চূড়ান্ত প্রমাণ দিতে বিজয় হাজারে ট্রফিতে একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে হয় তাঁকে। মুম্বইয়ের হয়ে হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে চার নম্বরে নেমে ৫৩ বলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন শ্রেয়স। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার ও ৩টি ছয়। শুধু রানই নয়, গোটা ইনিংস জুড়ে তাঁর শরীরে কোনও অস্বস্তির চিহ্ন ধরা পড়েনি। ম্যাচের পরও কোনও সমস্যা দেখা যায়নি, যা মেডিক্যাল টিমকে পুরোপুরি আশ্বস্ত করেছে। সেই কারণেই আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ম্যাচের অপেক্ষা না করেই তাঁকে ফিট ঘোষণা করা হয়েছে।
আগেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে শর্তসাপেক্ষে সহ-অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়েছিল শ্রেয়সকে। এবার সিওই তাঁকে সম্পূর্ণ ফিট ঘোষণা করায় আসন্ন সিরিজে তাঁর খেলা নিশ্চিত। ১১ জানুয়ারি প্রথম ওয়ানডে। সেই ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেন তিনি। বৃহস্পতিবার বডোদরায় জাতীয় দলের বাকিদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
নিউজিল্যান্ড সিরিজ বড় কোনও টুর্নামেন্ট না হলেও, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় শ্রেয়সের ফেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষমতা ও মিডল অর্ডারে ইনিংস গড়ার দক্ষতা– সব মিলিয়ে তাঁর উপরই দীর্ঘমেয়াদি ভরসা রাখতে চাইছে টিম ইন্ডিয়া। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরেই কত দ্রুত নিজের চেনা ছন্দে ধরা দেন তিনি।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন