ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে বিজেপির আত্মবিশ্বাস যে বাড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে। এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৪৪ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ার পর বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই কেন্দ্রেই শাসকদলের ভিত নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। তার উপর বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে ইডির তল্লাশি এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ককে হাতিয়ার করে পথে নামে বিজেপি। যাদবপুর ৮বি থেকে রাসবিহারী পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী।
মিছিল চলাকালীন বিরোধী দলনেতা বলেন, “এখানে কোনও ফিল্মস্টার নেই। রুদ্রনীল ঘোষ এখন রাজনীতিবিদ। সরকারের যে নাটক হয়েছিল, তার প্রতিবাদেই আজকের মিছিল। ভবানীপুরে হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী না করা পর্যন্ত আমি থামব না।” মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসার ঘটনাকেও নিশানা করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “সবাই দেখেছে, উনি নিজেই ফাইল কেড়ে এনেছেন এবং তা সগর্বে স্বীকারও করেছেন।”
ভবানীপুরে তিনি নিজে প্রার্থী হবেন কি না, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েও আত্মবিশ্বাসের সুরে শুভেন্দু বলেন, “ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারবেন। দল যাঁকেই প্রার্থী করুক, তাঁকে হারানোর দায়িত্ব আমার।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপিই সরকার গঠন করবে। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় এলে “চোরেদের লাইন দিয়ে জেলে পাঠানো হবে।”
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তবে শুভেন্দুর দাবি, সেই তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচনে লড়তে তৃণমূল রাজি হবে না। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূল আর দুর্নীতি সমার্থক। মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল ছিনতাই সেটাই প্রমাণ করে।”
অন্য দিকে, বিজেপির এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূলও। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য, “দাঁড় কাক ময়ূরের পালক পরলেই ময়ূর হয় না। শুভেন্দু অধিকারীকেও আজীবন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোয় থাকতে হবে।”
প্রসঙ্গত, এর আগের দিন একই যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিছিল করেছিলেন। সেই মিছিল থেকে দিল্লির বঞ্চনা ও কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে স্পষ্ট– ক্ষমতার লড়াইয়ে এখন রাজপথই প্রধান মঞ্চ, যেখানে মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন