সমকালীন প্রতিবেদন : বারো মাসের তেরো পার্বণ পেরিয়ে শীতের কলকাতায় বইপ্রেমীদের কাছে কলকাতা বইমেলা এ যেন চোদ্দ নম্বর পার্বণ। জানুয়ারির শেষদিকে যত দিন এগোয়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও শহরে ফিরছে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। আগামী ২২ জানুয়ারি বিকেল ৪টেয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে চলেছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা, যা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এবছরও বইমেলার উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো। পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক জগতের বহু বিশিষ্টজন।
বইমেলা কর্তৃপক্ষ গিল্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। ফলে বইমেলা প্রাঙ্গণে চোখে পড়বে আর্জেন্টিনার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের ছোঁয়া। এবছর বইমেলায় মোট ৯টি তোরণ তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে দুটি আর্জেন্টিনার স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত। এছাড়াও প্রফুল্ল রায় ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে দুটি তোরণ থাকছে। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর নামেও একটি তোরণ উৎসর্গ করা হয়েছে।
চলতি বছরে বইমেলায় অংশ নিচ্ছে প্রায় ২০টি দেশ। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১,০০০টি প্রকাশনী অংশগ্রহণ করছে এই বইয়ের মহাযজ্ঞে। হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী নিয়ে বইমেলা যে এবারও পাঠক সমাগমে রেকর্ড ছোঁবে, তা বলাই যায়।
এবছর বইমেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্মরণ ও শ্রদ্ধার পর্বেও। পালিত হবে ভূপেন হাজারিকা ও সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন উৎসর্গ করা হয়েছে কবি রাহুল পুরকায়স্থর নামে। শিল্পী ময়ুখ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর নামেই থাকছে শিশু মণ্ডপ। পাশাপাশি আগের বছরের মতোই পালিত হবে চিরতরুণ দিবস ও শিশু দিবস। ৩০ জানুয়ারি ‘চিরতরুণ’ বা সিনিয়র সিটিজেন দিবস এবং ১ ফেব্রুয়ারি শিশু দিবস উদ্যাপিত হবে।
পরিবহণ ব্যবস্থাতেও থাকছে বিশেষ সুবিধা। বইমেলার ভিড় সামলাতে বাড়তি মেট্রো পরিষেবা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো চালু হওয়ায় এবার বইপ্রেমীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। হাওড়া ও শিয়ালদা থেকে সরাসরি মেট্রো করে করুণাময়ীর মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছানো যাবে। মেলা চলাকালীন ছুটির দিনেও বাড়তি মেট্রো চলবে। মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে মেট্রোর বিশেষ বুথ, যেখানে ইউপিআই মারফত টিকিট কাটা যাবে।
এছাড়াও এক নম্বর গেটের কাছে থাকছে অ্যাপ ক্যাবের বিশেষ স্ট্যান্ড। যাত্রী সাথীর সঙ্গে চুক্তির ফলে তিনটি আলাদা বুথ থাকবে সেখানে। বইমেলার নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে গুগল লোকেশন ব্যবহার করে যে কোনও স্টল খুঁজে পাওয়া যাবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে মিলবে ডিজিটাল ম্যাপ ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা, পাশাপাশি থাকছে মুদ্রিত ম্যাপও।
সব মিলিয়ে, বই, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা যে আবারও শীতের কলকাতায় উৎসবের আমেজ ফিরিয়ে আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৬। বইপ্রেমীদের জন্য আগামী দিনগুলো যে একেবারেই অন্যরকম হতে চলেছে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন