সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে ধীরে ধীরে শীত বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে বলে ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দপ্তর। গত বুধবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা সামান্য কমে নেমে আসে ১২.৫ ডিগ্রিতে। তবে শুক্রবার ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় পারদ। এ দিন শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.২ ডিগ্রি কম হলেও আগের দিনের চেয়ে বেশি।
ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত যে হাড়কাঁপানো শীতের দাপট দেখা গিয়েছিল, তা আপাতত আর নেই। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অর্থাৎ, আগামী কয়েক দিন রাজ্যে মোটের উপর একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে। শনিবার ও রবিবার শীত অনুভূত হলেও সোমবার থেকে জাঁকিয়ে ঠান্ডার প্রভাব অনেকটাই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও সামান্য বেড়েছে। বৃহস্পতিবার যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার তা বেড়ে হয়েছে ২৩.৮ ডিগ্রি। যদিও এখনও তা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২.১ ডিগ্রি কম। কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই তাপমাত্রা অল্প করে বেড়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচেই থাকবে। তবে সোমবারের পর থেকে উষ্ণতা বাড়তে শুরু করবে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়বে সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও। ফলে বুধবার থেকে রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই শীতের আমেজ অনেকটাই কমে যাবে। অন্তত সরস্বতী পুজো পর্যন্ত এই আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। ভোর ও সন্ধ্যায় শীত অনুভূত হলেও দিনের বেলায় গরমের ছোঁয়া থাকবে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। কাশ্মীরে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় থাকায় উত্তুরে হাওয়ার দাপট কমেছে। পাশাপাশি ১৯ জানুয়ারি ফের একটি ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও লাক্ষাদ্বীপ ও সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব আরব সাগর এলাকায় এবং কেরল উপকূলে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় থাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে।
রবিবার পর্যন্ত কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও পশ্চিমের জেলা ও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য অংশে তা ৭ থেকে ১১ ডিগ্রির ঘরে থাকতে পারে। তবে আগামী বুধবারের মধ্যে এই তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ দিকে, শনিবার ১৭ জানুয়ারি মালদা এবং রবিবার ১৮ জানুয়ারি হুগলিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফর রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মালদা ও হুগলিতে সকালের দিকে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দুপুরের পরে নির্ধারিত হেলিকপ্টার ল্যান্ডিংয়ে বড় কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম।
সোমবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় কুয়াশার দাপট বাড়তে পারে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতেও সোমবার পর্যন্ত ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের মতো উত্তরবঙ্গেও তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে। তবে পাহাড়ি এলাকায় শীতের অনুভূতি আরও কিছু দিন বজায় থাকবে। কুয়াশার দাপটে ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সোমবারের পর থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও শীত এখনই পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না। সরস্বতী পুজো পর্যন্ত কিছুটা ঠান্ডা উপভোগ করা যাবে। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে শীতের বিদায় এবং উষ্ণতার দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন