সমকালীন প্রতিবেদন : মুড়িগঙ্গা নদীর উপর অবশেষে বাস্তব রূপ নিতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত গঙ্গাসাগর সেতু। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ ও কচুবেড়িয়াকে যুক্ত করতে প্রায় ৪.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হতে চলেছে। সোমবার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী চার বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই গঙ্গাসাগর ও সাগরদ্বীপের মানুষের যাতায়াত একটি বড় সমস্যার কারণ ছিল। বিপজ্জনক ফেরি বা ভেসেলের উপর নির্ভর করেই নদী পারাপার করতে হতো নিত্যযাত্রী, পর্যটক ও গঙ্গাসাগর মেলায় আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীকে। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতেই গঙ্গাসাগর সেতু প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেতুটি চালু হলে যাতায়াতে যেমন আমূল পরিবর্তন আসবে, তেমনই সাগরদ্বীপের সার্বিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
প্রায় ছয় বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। সেই সময়ে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য একাধিকবার আবেদন জানালেও অভিযোগ, প্রত্যাশিত সহযোগিতা মেলেনি। পরবর্তীতে সাগরদ্বীপের বাসিন্দা ও গঙ্গাসাগর মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গাসাগর সেতু প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১,৬৭০ কোটি টাকা। সেতুটি চার লেনের হবে, যেখানে ক্যারেজওয়ের প্রস্থ ৮ মিটার এবং উভয় পাশে ১.৫ মিটার চওড়া ফুটপাত থাকছে। নকশা অনুযায়ী, সেতুটি দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা নিবেদিতা সেতুর আদলে নির্মিত হবে। ইতিমধ্যেই সেতুর নকশা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।
এই প্রকল্পের জন্য মোট প্রায় ১২.৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাকদ্বীপ অংশে ৭.৯৫ একর এবং কচুবেড়িয়া অংশে ৫.০১ একর জমি রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রায় ৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বাকি জমির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।
গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর টানা দশ বছর সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ওই সংস্থার উপরেই থাকবে।
প্রসঙ্গত, এক সময় এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব কেন্দ্রের তরফে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। তাজপুর বন্দরের অংশীদারিত্বের বিনিময়ে কেন্দ্রকে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার নিজ উদ্যোগেই প্রকল্পটি হাতে নেয়।
প্রশাসনের আশা, গঙ্গাসাগর সেতু চালু হলে গঙ্গাসাগর মেলার সময় যাতায়াত সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকটাই মিটবে। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই উপকূলবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এই সেতু এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন