সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘদিন ধরে চলা লটারির কালোবাজারি ও জালিয়াতি রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল লটারির টিকিট বিক্রির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের একটি বিশেষ দল। ধৃতদের কাছ থেকে কয়েক হাজার জাল টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই 'ওয়েস্ট বেঙ্গল লটারি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হচ্ছিল যে, বাজারের আড়ালে একটি চক্র ভুয়ো লটারি বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বারাসত থেকে আসা রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল বুধবার ঠাকুরনগরে হানা দেয়।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় ঠাকুরনগরের চিকনপাড়া ও রেল কলোনি এলাকায় অতর্কিতে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই পুলিশ হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম জ্যোতি মিত্র, রানা বাড়ুই এবং অবিনাশ বালা। তল্লাশি চালিয়ে ধৃতদের হেফাজত থেকে আনুমানিক ২৬০০ পিস জাল লটারির টিকিট উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের গাইঘাটা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ধৃত তিনজনকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। চক্রের মূল পান্ডা কারা এবং এই জালের বিস্তার কতদূর, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ধৃতদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায়। বিচারক পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে ধৃতদের পরিবারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃত এক বিক্রেতার মা দাবি করেছেন যে, তাঁর ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং সে নিজের দোকানে স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করত। তবে পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে টিকিটগুলির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট গরমিল পাওয়া গিয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কোনও রাঘববোয়াল যুক্ত কি না, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রেখেছে পুলিশ।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন