সমকালীন প্রতিবেদন : কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও কল্পিত’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেই নোটিসের কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য, এই ‘প্রতারণামূলক নীরবতা’ কোনওভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না, বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে আদালতেই।
এদিন শুভেন্দু স্পষ্ট করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে আদালতে টানবেন বলে তিনি আগেই ঘোষণা করেছিলেন এবং সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, দ্রুত আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে আদালতের নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ীকে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। সেই অর্থ তিনি দাতব্য কাজে ব্যয় করবেন বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা।
শুভেন্দুর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই ‘কুৎসিত কল্পনার’ বিরুদ্ধে আইনি লড়াই ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না বলেই তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক মহলে এই মামলাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এদিন বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। দলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই যখন অভিযোগ তুলেছেন, তখন দলের মুখপাত্রদের আর আলাদা করে কিছু বলার নেই। তবে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এই মামলার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, জাতীয় রাজনীতিতে মানহানির মামলার এই প্রবণতা নতুন নয়। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে প্রয়াত অরুণ জেটলির দায়ের করা মানহানির মামলা এই ধরনের আইনি লড়াইয়ের অন্যতম দৃষ্টান্ত। সেই মামলায় শেষ পর্যন্ত নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিষ্পত্তি হয়েছিল বিষয়টি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, শুভেন্দু-মমতা মামলাও রাজ্য রাজনীতিতে তেমনই গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন