সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেটের দুই স্তম্ভ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার সরাসরি আলোচনায় বসতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড বিসিসিআই। ২০২৭ সালের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সিনিয়র নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ড কর্তাদের মধ্যে বিশেষ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সদ্যসমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজের পরই এই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে– ভবিষ্যতের রোডম্যাপে কতটা জায়গা পাবেন রো–কো?
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে রোহিত শর্মা ছিলেন ধারাবাহিক– দুটি ম্যাচে রান, একটি সেঞ্চুরি এবং সিরিজের সেরা ক্রিকেটারের সম্মান। অন্যদিকে বিরাট কোহলি প্রথম দু’টি ম্যাচে খাতা না খুললেও তৃতীয় ম্যাচে কার্যকর ইনিংস খেলেন রোহিতের সঙ্গে। তা সত্ত্বেও ভারত সিরিজটি ১–২ হারায়। বোর্ড মনে করছে, দক্ষতা নয়, চিন্তার বিষয় হল দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ‘রিদম’ ও ধারাবাহিকতা।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপের সময় দু’জনই চল্লিশের কাছাকাছি বয়সে পৌঁছে যাবেন। তাই দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়ে যাচ্ছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বিসিসিআইয়ের এক কর্তা জানিয়েছেন, “রোহিত ও কোহলির মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের থেকে কী প্রত্যাশা করবে দল এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে– তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত জরুরি। অনিশ্চয়তার মধ্যে কাউকে খেলানো যায় না।”
খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শেষে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, নির্বাচক অজিত আগরকর এবং বোর্ডের শীর্ষকর্তারা আহমেদাবাদে বৈঠকে বসবেন। সেখানে সিনিয়রদের ফর্ম, ফিটনেস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার শুরু ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজ। ক্রিকেটমহলের মত, এটি কোনও ‘অডিশন’ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির প্রথম ধাপ।
রোহিত ও কোহলি কি নিজেদের ব্যাটিংয়ে রূপান্তর আনতে পারবেন? যদি পারেন, তাঁরা ২০২৭ বিশ্বকাপ প্রজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়েই থাকবেন। না হলে বোর্ড বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হবে। একটি সূত্রের ভাষায়, “প্রতিটি সিরিজে তাঁদের বয়ে নিয়ে চলা সম্ভব নয়। প্রথম দু’টো ম্যাচে ওরা ভুগেছে, যদিও শেষ ম্যাচে রান করেছে। কিন্তু ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।”
বোর্ড মনে করছে, রোহিত–কোহলির মতো কিংবদন্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবেগপ্রবণ হওয়ার সময় শেষ। স্পষ্ট দায়িত্ব, স্পষ্ট কৌশল ও প্রয়োজনে স্পষ্ট বিদায়ের সময়সীমা– এখনই ঠিক করতে হবে। রোহিত–কোহলি কি আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের গতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন? পারবেন কি নিজেদের সেই পুরনো স্বরূপে ফিরে যেতে? ভারতীয় ক্রিকেটের আগামীর চিত্র অনেকটাই নির্ভর করছে এই দুই তারকার রূপান্তরের উপর।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন