Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

শ্রীলঙ্কায় বিপর্যয়ের পর এবার ভারতের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের লাল সতর্কতা

 

Cyclone-red-alert

সমকালীন প্রতিবেদন : ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহা শ্রীলঙ্কায় তাণ্ডব চালিয়ে এবার দ্রুতগতিতে ভারতের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়া দপ্তর আগেই জানিয়েছিল, রবিবার সকালেই এই ঘূর্ণিঝড় তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী একাধিক অঞ্চলে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা।

শনিবার থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের বহু এলাকায় শুরু হয়েছে ঝড়বৃষ্টি। নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কয়েকটি স্কুল–কলেজে ছুটি ঘোষণা করেছে তামিলনাড়ু সরকার। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বাতিল হয়েছে রাজ্য থেকে উড়তে চলা ৫৪টি বিমানও।

এদিকে, দিতওয়াহার আগে তাণ্ডবের প্রকোপে শ্রীলঙ্কায় তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। ঢলে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি, প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বিপর্যয়ের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫৩ জন মানুষ। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ১৩০–এরও বেশি ব্যক্তি। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

সরকারি ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪৪ হাজারের কাছাকাছি মানুষ। মৃতদের পরিবার ও আক্রান্ত এলাকার মানুষের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পড়শি দেশের দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে ভারতের তরফে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’। শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ভারতীয় বায়ুসেনার সি–১৩০জে বিমান যোগে ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কায় ১২ টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

পাশাপাশি, উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিক্রান্তকে মোতায়েন করেছে কেন্দ্র। শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি দ্বীপদেশের উপকূল পেরিয়ে গেলেও ‘আফটার এফেক্ট’ হিসেবে ভারী বৃষ্টি ও প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া রবিবার পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।

এদিকে, ভারতের উপকূলে দিতওয়াহার সম্ভাব্য আঘাতের আগে থেকেই প্রস্তুতি সেরে রেখেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ছ’হাজার ত্রাণ শিবির। ভারী বৃষ্টির জেরে মানদাপামে আটকে পড়ে রামেশ্বরমগামী ট্রেনযাত্রীরা। তাঁদের নিরাপদে ফেরাতে ব্যবস্থা করা হয় সরকারি বাস ও ফেরির। দক্ষিণ ভারতের লবণ উৎপাদনও বিপর্যস্ত হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে প্রায় নয় হাজার একর সল্ট প্যান।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে রবিবার পেরামবালুর, নাগাপাত্তিনাম, কাল্লাকুরিচি, পুদুচেরি–সহ একাধিক জেলার স্কুল–কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পুদুচেরি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শনিবারের সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের অযথা বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের এই কয়েকদিন সমুদ্রে না যেতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন