Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কোন কোন খাবার ফ্রিজে রাখবেন বা রাখবেন না?‌

 ‌

Refrigerator-food

সমকালীন প্রতিবেদন : ফ্রিজের খাবার খেলেই সর্বনার্শ ! বাড়তে পারে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি ! তাহলে কী ফ্রিজে রেখে খাবার খাওয়া একেবারেই চলবে না ? খাদ্যগুণ আদৌ বজায় থাকে ফ্রিজের খাবারে? কোন কোন খাবার একেবারেই ফ্রিজে রাখবেন না ? আসুন ‌এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা জেনেনি। 

ফ্রিজে রান্না করা খাবার রেখে খেতেই পারেন। কিন্তু তারজন্য মানতে হবে কিছু নিয়ম, বলছেন পুষ্টিবিদরা। যেমন এমন কিছু খাবার আছে যা একেবারেই ফ্রিজে রাখা চলবে না। আবার এমন খাবারও আছে যা দুই বা তিনদিন ফ্রিজে রেখে খাওয়া যায়। কিন্তু রান্না করা খাবার দীর্ঘদিন ফ্রিজে রেখে খেলে তাতে খাদ্যগুণ কিছু থাকে না, বিষক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। শুরুতেই বলি কোন কোন খাবার খুব কম সময় ফ্রিজে রাখা যায়। 

দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা ময়দা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণত, সকালে ময়দা মেখে সন্ধে পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করতে পারেন, তবে ২-৩ দিন পুরানো ময়দা ব্যবহার করবেন না। এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়তে শুরু করে, যা পেটে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি ইত্যাদি সমস্যা তৈরি করতে পারে। রান্না করা ভাতও বেশিক্ষণ ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা ভাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে শুরু করে, যা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর। রান্না করা ভাত সর্বোচ্চ একদিনের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করা নিরাপদ বলে মনে করা হয়। এর থেকে বেশি সময় পর এগুলো খেলে বদহজম হতে পারে।

রান্না করা মসুর ডাল দুই দিনের বেশি ফ্রিজে রাখা উচিত নয়, তা না হলে উপকারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। রান্না করা মসুর ডাল বেশিক্ষণ ফ্রিজে রাখলে এর সব পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া এসব ডাল খেলে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অ্যাসিডিটির মতো পেটের সমস্যাও হতে পারে। যেকোনো রান্না করা সবজি ফ্রিজে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা রাখতে হবে। এর পরে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে মশলাদার সবজি কখনোই এর বেশি সময় সংরক্ষণ করা উচিত নয়।

এবার আশা যাক সেই সমস্ত জিনিস যা একেবারেই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। কাটা পেঁয়াজ কখনই ফ্রিজে রাখবেন না। পেঁয়াজ কেটে ফ্রিজে রাখলে খুব তাড়াতাড়ি পেঁয়াজের উপর ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাক বাসা বাঁধে। তাই কাটা পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।

আদাও ফ্রিজে রাখা মোটেই উচিত নয়। ফ্রিজে রাখলে আদার উপরেও ছত্রাক বাসা বাঁধে। সেই আদা রান্নায় ব্যবহার করলে কিংবা কাঁচা খেলে কিডনি ও লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আলু একেবারেই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। ফ্রিজের তাপমাত্রা আলুতে থাকা কার্বোহাইড্রেটকে নষ্ট করে দেয়। রান্না করার পর আলুর স্বাদ এতে বদলে যেতে পারে।

কলা সব সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা উচিত, ফ্রিজে একেবারেই রাখবেন না। ঘরের তাপমাত্রায় কলা কাঁচা থাকলেও তা পেকে যাবে। মধু একেবারেই ফ্রিজে রাখবেন না। মধু অন্ধকার জায়গায় রাখলে তা অনেকদিন পর্যন্ত ভাল থাকে। 

পুষ্টিবিদদের মতে, ফ্রিজের ঠান্ডা ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করলে খাবার তার স্বাদ, ধরন ও পুষ্টিকর তত্ত্ব হারিয়ে ফেলে। ভিটামিন সি ও বি বিভাগের খাবারগুলি সবচেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়। ফ্রিজে ফল এবং শাক-সবজি সংরক্ষণের সময় সতর্ক থাকা উচিত। রান্না করা খাবার ঠান্ডা হওয়ার পরেই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। আমিষ খাবার ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা উচিত। সবমিলিয়ে ফ্রিজে রান্না করা খাবার রাখতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। কাজ কমাতে অনেক রান্না করে একসঙ্গে ফ্রিজে রাখলে তা শরীরের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।‌‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন