সমকালীন প্রতিবেদন : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও এসআইআর-এর বিরোধিতায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে ডেপুটেশন দিতে চলেছেন মতুয়া ভক্তরা। সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের ব্যানারে শুক্রবার সকালে বনগাঁ মহকুমা থেকে একদল মতুয়া ভক্ত রওনা দেন বিহারের পাটনার উদ্দেশ্যে। সূত্রের খবর, বিহারের রাজধানীতে রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা শুরু হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গেই দেখা করবেন মতুয়া প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি তাঁকে বনগাঁয় আসার আমন্ত্রণও জানানো হবে।
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই সারা দেশে সিএএ ও এসআইআর-এর প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে। বিশেষত বিহারে এসআইআর বিরোধী পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন তিনি। তার আগেই মতুয়া ভক্তরা কংগ্রেস নেতার হাতে নিজেদের দাবি তুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন।
মতুয়াদের দাবি, ওপার বাংলা থেকে অত্যাচারিত হয়ে তাঁরা ভারতে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এদেশের নাগরিক। নতুন করে নাগরিকত্ব প্রমাণ দেওয়ার দাবি তাঁদের কাছে অন্যায্য। সাধারণ মতুয়া ভক্তদের অভিযোগ, বিজেপি ও তৃণমূল ঠাকুরবাড়িকে কেন্দ্র করে মতুয়া সমাজকে ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করছে। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা রাজনীতি চাই না, আমরা নাগরিক। আর নাগরিকত্বের প্রমাণ বারবার দিতে রাজি নই।”
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, “এরা সব নকল মতুয়া। শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘ দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মতুয়াদের নাগরিকত্বের জন্য লড়াই করছে।”
অন্যদিকে, সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের বনগাঁ মহকুমা কমিটির সম্পাদক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস মতুয়া ভক্তদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বড়মা বীণাপাণি দেবী অনেক আগেই এই আইনকে কালা কানুন বলেছেন। মতুয়া ভক্তরা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়াবেন।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়াদের এই উদ্যোগে নতুন করে চাপে পড়বে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী উভয় দলই। কারণ, আগামী দিনে মতুয়াদের রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন