Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫

তালিকা চেয়ে ফের বিক্ষোভ, অবস্থান প্রত্যাহার চাকরিহারাদের, সপ্তাহান্তে ফের পথে নামার হুঁশিয়ারি

 

Jobless-people-withdrawing-positions

সমকালীন প্রতিবেদন : যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ নিয়ে কোনও রফাসূত্র বেরোল না রাজ্য সরকারের সঙ্গে চাকরিহারাদের বৈঠকে। সোমবার নবান্ন অভিযানের পর মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের সঙ্গে আন্দোলনকারী চাকরিহারাদের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। তালিকা প্রকাশ নিয়েই অনড় থাকলেন আন্দোলনকারীরা। যদিও রাতেই আন্দোলনের কৌশলে পরিবর্তন ঘটিয়ে অবস্থান প্রত্যাহার করলেন তাঁরা। তবে জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে আবার বৃহত্তর কর্মসূচি নিতে চলেছেন, এমনকি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

চাকরিহারাদের তরফে মেহবুব মণ্ডল ও চিন্ময় মণ্ডলের মতো নেতৃত্বরা দাবি করেন, “সুপ্রিম কোর্ট তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়নি, কিন্তু নিষেধও করেনি। তা হলে তৈরি তালিকা জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না কেন?” তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী নিজেরাই বলেছেন তালিকা প্রস্তুত, তাহলে তা লুকিয়ে রাখা হচ্ছে কী কারণে?

সোমবার সকালে ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের একাংশ নবান্ন অভিযান শুরু করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের দাবি জানাতেই ছিল তাঁদের উদ্যোগ। তবে মাঝপথেই তাঁদের আটকায় পুলিশ। পরে, ২০ জন প্রতিনিধির একটি দলকে বৈঠকে ডাকেন মুখ্যসচিব। কমিশনার-সহ উচ্চপদস্থ আমলারা উপস্থিত থাকলেও, বৈঠক শুরু হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই মুখ্যসচিব বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ।

চাকরিহারাদের বক্তব্য, মুখ্যসচিব তাঁদের কথা শুনেছেন এবং তা নোটও করেছেন। কিন্তু যেটা চাওয়া হয়েছিল–যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ–সেই বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। রাতের মধ্যেই তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে রাতভর অবস্থানের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। যদিও শেষপর্যন্ত নিজেদের অবস্থান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হয় এবং রাস্তা স্বাভাবিক হয়।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁদের নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে এবং তার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশন মে মাসের শেষে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তবে, যাঁরা নিজেদের ‘যোগ্য’ বলে দাবি করছেন, তাঁদের অনেকেই পুনরায় পরীক্ষা দিতে রাজি নন।

চাকরিহারাদের অভিযোগ, প্রশাসন শুধু সময় নষ্ট করছে। তাঁদের দাবি স্পষ্ট, যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দিক সরকার এবং ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের নিয়োগ পুনর্বহাল করা হোক। এখন দেখার, সপ্তাহান্তের কর্মসূচিতে আন্দোলন নতুন কী মোড় নেয় এবং সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ করে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন