Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১

বনগাঁর প্রাক্তন পুরপ্রধানের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তিকে ঘিরে চাঞ্চল্য

 

Public-confession-of-the-former-chairman-of-Bangaon

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে পুরসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। আর তার আগে বনগাঁর পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল প্রধানের প্রকাশ্য জনসভার একটি মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেল।‌ সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই বক্তব্যে প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, ২০১৫ সালে বনগাঁ পুরসভা নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে দলের নেতৃত্বের নির্দেশে যেভাবে তিনি এবং দলের কর্মীরা উপস্থিত হয়ে দলের সেই প্রার্থীকে জিতিয়ে এনেছিলেন, সেটা ভুল ছিল। সেই কৃতকর্মের জন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন। যদিও দলীয় নেতৃত্ব তাঁর এই স্বীকারোক্তিকে সমর্থন করছে না। তবে এই স্বীকারোক্তিকে হাতিয়ার করে আক্রমন করতে ছাড়ছে না বিরোধীরা। 


২০১৫ সালের বনগাঁ পুরসভা নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কারচুপি করা হয়েছে বলে বিরোধীরা বার বার অভিযোগ করে আসছিলেন। এমনকি প্রকাশ্য জনসভায় সেকথাও তাঁরা বহুবার উল্লেখ্য করেছেন। দিন কয়েক আগে বনগাঁর মিলনপল্লী এলাকায় একটি অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রকাশ্যে বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান শঙ্কর আঢ্যর বক্তব্য সেই অভিযোগকেই মান্যতা দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য। ওই অনুষ্ঠানে শঙ্কর আঢ্যকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে বনগাঁ পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের অর্ন্তগত বনগাঁ হাইস্কুলের বুথে তিনি এবং দলের কর্মীরা যেভাবে ভোট করিয়েছিলেন, সেটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল। এরজন্য তিনি বনগাঁর মানুষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।


শঙ্কর আঢ্যর সেই বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হচ্ছে যে, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডটি বামপন্থীদের শক্ত ঘাটি। সেইদিন সকাল থেকে যেভাবে ভোট হচ্ছিল। তাতে তৃণমূল প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনে সেই প্রার্থী দলের জেলা নেতৃত্বের কাছে বার বার চোখের জল ফেলে ওয়ার্ডটিকে উদ্ধার করার কথা বলেন। নিজে একটি ওয়ার্ডের প্রার্থী হয়েও এরপর উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশে নিজের বুথ ছেড়ে একপ্রকার বাধ্য হয়ে দলীয় কর্মীদের নিয়ে সেই ওয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে সেভাবে ভোট করিয়েছিলেন সেটি ঠিক কাজ হয় নি বলে স্বীকার করে নেন শঙ্কর আঢ্য। সেদিনের সেই কাজটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল। সেই ভুল কাজের জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।


উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের বনগাঁ পুরসভা নির্বাচনে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়লাভ করেন তৃণমূল প্রার্থী মৌসুমী চক্রবর্তী। শঙ্কর আঢ্যর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কে কি বলছেন আমার জানা নেই। অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মমতা ব্যানার্জীকে দেখে মানুষ দুহাত ভরে আশীর্বাদ করে ২২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯ টিতে আমাদের প্রার্থীদের জিতিয়েছিলেন। এতোদিন পর কেউ যদি অন্য কোনওরকম অভিযোগ তোলেন, তাহলে তার দায় তো নির্বাচন কমিশনের।'‌ এব্যাপারে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী আলোরাণী সরকার জানান, '২০১৫ সালে কি হয়েছিল, তা আমার জানা নেই। তবে আগামী দিনে যে নির্বাচন হবে, সেখানে কোনও রিগিং হবে না। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, সমাজসেবী এমন ভাবমূর্তির মানুষকে প্রার্থী করা হবে।'‌




 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন