Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

দিল্লি-হাওড়া যাত্রায় সময় বাঁচাবে বন্দে ভারত স্লিপার, ১৫ ঘণ্টায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা

 

Delhi-Howrah-Vande-Bharat-Sleeper

সমকালীন প্রতিবেদন : দূরপাল্লার রেলযাত্রীদের জন্য আসতে চলেছে সুখবর। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এবার আরও কম সময়ে নয়াদিল্লি থেকে হাওড়া পৌঁছানোর সুযোগ মিলতে পারে। দিল্লি-হাওড়া রুটে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালুর প্রস্তাব ঘিরে রেলমহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। 

রেলওয়ে বোর্ডের সাম্প্রতিক বৈঠকে এই পরিষেবা চালুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদন পেতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ট্রেন চালুর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ, চূড়ান্ত সময়সূচি এবং ভাড়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি রেল কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি থেকে হাওড়া পৌঁছাতে সাধারণত ১৭ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। সেখানে প্রস্তাবিত বন্দে ভারত স্লিপার চালু হলে যাত্রার সময় কমে প্রায় ১৫ ঘণ্টা হতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান পরিষেবার তুলনায় প্রায় দু’ঘণ্টা সময় বাঁচানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রেল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লি থেকে হাওড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৪৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে এই ট্রেন। 

প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুসারে, বিকেল ৫টা নাগাদ নয়াদিল্লি থেকে ট্রেনটি ছাড়তে পারে। পরের দিন সকাল ৮টা নাগাদ হাওড়ায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত নয়। প্রস্তাবিত রুটে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্ভাব্য স্টপেজের তালিকায় রয়েছে কানপুর সেন্ট্রাল, প্রয়াগরাজ জংশন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন, গয়া, কোডারমা, পরেশনাথ, ধানবাদ এবং আসানসোল। 

এই স্টেশনগুলিতে ট্রেনটি থামলে দিল্লি ও হাওড়ার মধ্যে যাতায়াতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রীদেরও সুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং কর্মসূত্রে যাঁদের নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের কাছে নতুন পরিষেবাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও কোন কোন স্টেশনে ট্রেন থামবে, তা রেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরেই জানা যাবে।

যাত্রীদের আরামদায়ক রাতের সফরের কথা মাথায় রেখে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ট্রেনটিতে মোট ১৬টি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ থাকার কথা। এর মধ্যে ১১টি এসি থ্রি-টায়ার, চারটি এসি টু-টায়ার এবং একটি ফার্স্ট এসি কোচ থাকতে পারে। উন্নতমানের বার্থের পাশাপাশি ট্রেনটিতে স্বয়ংক্রিয় দরজা, সিসিটিভি নজরদারি, আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের সুবিধা থাকার কথা। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে যুক্ত করা হবে ‘কবচ’ প্রযুক্তিও।

ভাড়ার বিষয়টি নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসি থ্রি-টায়ারের ভাড়া প্রায় ৩ হাজার টাকা, এসি টু-টায়ারের ভাড়া প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং ফার্স্ট এসির ভাড়া প্রায় ৫ হাজার ১০০ টাকা হতে পারে। তবে এই অঙ্কগুলি সম্ভাব্য ভাড়া হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত ভাড়া সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, হাওড়া-কামাখ্যা রুটে বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা চালু হওয়ার পর এই নতুন প্রস্তাব ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। দিল্লি-হাওড়া রুটে পরিষেবাটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। এখন নজর রেলওয়ে বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। ট্রেনটি কবে থেকে চলবে, কখন বুকিং শুরু হবে এবং কোন স্টেশনগুলিতে থামবে, তার উত্তর মিলবে রেলের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতেই।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন