Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

রণজিতে বাংলার জয়ের হ্যাটট্রিক, কেরলকে ২৮৭ রানে উড়িয়ে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে বাংলা দলের

 ‌

Bengal-victory-in-Ranji-Trophy

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌রণজি ট্রফিতে দুরন্ত ছন্দে বাংলা। দিল্লি ও সার্ভিসেসের পর এবার কেরলকে হারিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয়ের নজির গড়ল লক্ষ্মীরতন শুক্লার প্রশিক্ষণাধীন দল। প্রতিপক্ষের মাঠে নেমে ২৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। বাংলার এই জয়ে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন শাহবাজ আহমেদ। অন্যদিকে, বল হাতে কেরলের ব্যাটিং বিভাগকে কার্যত ধসিয়ে দিলেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠলেন তিনি। তিন ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এলিট গ্রুপ সি-তে শীর্ষস্থানও পাকা করল বাংলা।

ম্যাচের তৃতীয় দিনেই বাংলার জয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে কেরলের রান ছিল চার উইকেটে ৫৩। জয়ের জন্য তখনও ৩৫৫ রান প্রয়োজন ছিল তাদের। অন্যদিকে, বাংলার সামনে লক্ষ্য ছিল কেরলের বাকি ছয়টি উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া। চতুর্থ দিনের সকালে সেই কাজ করতে বেশি সময় নেননি বাংলার বোলাররা। মাত্র ১২০ রানেই শেষ হয়ে যায় কেরলের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে ২৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বাংলার।

প্রথম ইনিংস থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রেখেছিল বাংলা। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৫০ রান তোলে তারা। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের ব্যাটিংকে নির্ভরতা দেন শাহবাজ আহমেদ। তাঁর ১২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস বাংলাকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করায়। পাশাপাশি অঙ্কুর পালের ৬৬ রান এবং সুমন্ত গুপ্তের ৪৯ রানের অবদানও উল্লেখযোগ্য। শাহবাজের শতরান শুধু দলের রানসংখ্যা বাড়ায়নি, ম্যাচে বাংলার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতেও সাহায্য করেছে।

জবাবে প্রথম ইনিংসে বাংলার বোলারদের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি কেরল। মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। চারটি উইকেট তুলে নেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। মহম্মদ শামি পান তিনটি উইকেট এবং শাহবাজের ঝুলিতে আসে দু'টি। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২০৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়ে যায় বাংলা।

তবে অতিরিক্ত গরমের কথা মাথায় রেখে কেরলকে ফলোঅন করায়নি বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন বাংলার ব্যাটাররা। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ করেন ৪৭ রান। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ৩৪, অভিষেক পোড়েল ২১, শাহবাজ ২০ এবং মহম্মদ শামি ২৬ রান করেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রান তোলে বাংলা। কেরলের হয়ে পাঁচটি উইকেট নেন জলজ সাক্সেনা। ফলে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য ৪০৮ রানের লক্ষ্য পায় কেরল।

সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্বাগতিক দল। প্রদীপ্তর স্পিনের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ছ'টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম ইনিংসের চারটি উইকেট মিলিয়ে ম্যাচে মোট ১০টি উইকেট পান প্রদীপ্ত। শাহবাজও দ্বিতীয় ইনিংসে দু'টি উইকেট তুলে নেন। স্পিন সহায়ক পিচে মহম্মদ শামিও নজর কাড়েন। দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচটি উইকেট নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন বাংলার এই পেসার।

একের পর এক জয়ে স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস বাড়ছে বাংলার শিবিরে। তবে এখনই আত্মতুষ্ট হতে নারাজ কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তাঁর কথায়, দলের প্রত্যেকেই ভালো পারফর্ম করেছেন। প্রদীপ্ত নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। পরপর তিনটি ম্যাচ জেতা অবশ্যই ইতিবাচক, কিন্তু সামনে এখনও অনেকটা পথ বাকি। তাই সাফল্যে ভেসে না গিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলিতেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান তিনি।

আগামী ২ নভেম্বর ঘরের মাঠে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে বাংলা। তার আগে তিনটি জয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। গত মরশুমে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল বাংলা। এবারও শুরু থেকেই যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দল, তা স্পষ্ট। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে হলে আগামী ম্যাচগুলিতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন