Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলার দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

 

Cyclone-Arnab

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যেই সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে বুধবার গভীর রাত অথবা বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশার মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে না পড়লেও এই সিস্টেমের প্রভাবে বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়তে পারে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল নিম্নচাপটি। ওই সময় সেটির অবস্থান ছিল প্রায় ১৭.৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছে। পুরী থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং গোপালপুর থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল সিস্টেমটি। আগামী কয়েক ঘণ্টায় শক্তি সঞ্চয় করে এটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত অথবা পরদিন ভোরের দিকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশার মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে নিম্নচাপটি। বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী এলাকায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্থলভাগে প্রবেশের জায়গা পশ্চিমবঙ্গ থেকে দূরে হলেও এর প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আকাশ মেঘলা রয়েছে। দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিও শুরু হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আবহাওয়ার পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি স্পষ্ট। কোথাও বৃষ্টির মাঝে রোদের দেখা মিললেও সামগ্রিকভাবে মেঘলা আবহাওয়াই বজায় রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী দু’দিন বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বুধবার পুরুলিয়া-সহ আরও কয়েকটি জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতাতেও নিম্নচাপের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে আগামী দু’দিন শহরের স্বাভাবিক জনজীবনেও আবহাওয়ার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গেও। মঙ্গলবার দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি সিকিমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

নিম্নচাপ শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রও উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও উপকূলরক্ষী বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

অর্থাৎ, ‘অর্ণব’-এর সম্ভাব্য ল্যান্ডফল ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূলের দিকে হলেও তার পরোক্ষ প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না বাংলা। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েকদিন তাই রাজ্যের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতর।‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন