সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদকে কেন্দ্র করে চলা হাইভোল্টেজ আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস শিবির। বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা অন্তর্বর্তী আবেদনে সাড়া দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ বা একক বেঞ্চের নির্দেশে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই বহাল রইল এবং আগামী অন্তত দু’মাসের জন্য বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকছে।
আইনি জটিলতার সূত্রপাত ঘটেছিল বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। বিধানসভায় বিধায়কদের সংখ্যাধিক্যের ভিত্তি বিচার করে স্পিকার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সিলমোহর দেন। স্পিকারের এই পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং কালীঘাট শিবিরের মনোনীত প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় শাসকদলের একাংশ।
মামলাটি সিঙ্গল বেঞ্চ ঘুরে ডিভিশন বেঞ্চে উঠলে আশা প্রকাশ করেছিল কালীঘাট শিবির। তবে মঙ্গলবারের শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক দিকটি তুলে ধরে আবেদনকারীদের খালি হাতেই ফেরাল। বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, মামলাটি এখনও একবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এই ধরনের সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় পক্ষের লিখিত হলফনামা আদান-প্রদান এবং নথিপত্র পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, যা এখনও শেষ হয়নি। তাই স্পিকারের নেওয়া সিদ্ধান্তকে আপাতত একটি 'অস্থায়ী ব্যবস্থা' হিসেবে গণ্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ মূল মামলাটি পুনরায় একক বেঞ্চেই ফেরত পাঠিয়েছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে, হলফনামা জমা পড়ার পর আগামী দু’মাসের মধ্যে যেন এই দীর্ঘায়িত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়।
এ দিনের শুনানির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় ছিল স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ হওয়া। ডিভিশন বেঞ্চের এই অবস্থানের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী যে আর্জি জানান, তা আদালত মুহূর্তের মধ্যে বাতিল করে দেয়। ফলে বর্তমানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই স্পিকারের সিদ্ধান্ত ও আদালতের নির্দেশ মেনে সমস্ত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় আইনি লড়াইকে টিকিয়ে রাখতে কালীঘাট শিবির এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের দরবারে ধাক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর। এখন দেখার, সিঙ্গল বেঞ্চ কিংবা সর্বোচ্চ আদালতের আগামী পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতির এই মেগা সমীকরণের জল কোন দিকে গড়ায়।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন