Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

‌২০২৬ আইপিএলে অভিষেক শর্মার সঙ্গে তুলনায় কোন পাঁচ যুক্তিতে এগিয়ে বৈভব সূর্যবংশী?

Vaibhav-Suryavanshi

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এক নতুন ব্যাটিং মহাবিপ্লবের সাক্ষী থাকছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাকরণকে নতুন করে লিখছেন তরুণ ব্যাটাররা। এবারের আসরে গতির ঝড়ে সবথেকে বেশি চর্চিত নাম বৈভব সূর্যবংশী এবং অভিষেক শর্মা। দু’জনেই মাত্র ১৫ বলে এবারের দ্রুততম অর্ধশতরান করার নজির গড়েছেন। 

তবে বৈভব এক ধাপ এগিয়ে এই মরশুমে দু-দুবার ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। এই আবহে ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, অভিজ্ঞ অভিষেকের চেয়েও কি বৈভব বেশি ভয়ংকর? বৈভবের ব্যক্তিগত কোচ মণীশ ওঝা পাঁচটি অকাট্য যুক্তিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাঁর ছাত্র এই মুহূর্তে বোলারদের কাছে বড় আতঙ্ক।

চলতি মরশুমে বৈভব ও অভিষেকের পরিসংখ্যান বিচার করলে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চোখে পড়ে। বৈভব সূর্যবংশী এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ২০০ রান সংগ্রহ করেছেন। তবে নজর কাড়ছে তাঁর স্ট্রাইক রেট, যা অবিশ্বাস্য ২৬৩.১৫। এই মরশুমে অন্তত ১০০ রান করেছেন এমন ব্যাটারদের মধ্যে তাঁর স্ট্রাইক রেটই সর্বোচ্চ। এছাড়া ৫ ম্যাচেই তিনি ১৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে সর্বোচ্চ ছক্কা শিকারিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তারকা অভিষেক শর্মাও পিছিয়ে নেই। ৬ ম্যাচে ১৮৮ রান করেছেন তিনি, যার স্ট্রাইক রেট ২২৯.২৬। এই তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থানে থাকলেও ছক্কার নিরিখে বৈভবের ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৭টি ছক্কা। যদিও পরিসংখ্যানে বৈভব সামান্য এগিয়ে, তবে কোচ মণীশ ওঝার মতে পার্থক্যটা কেবল সংখ্যায় নয়, মানসিকতা ও দক্ষতায়।

মণীশ ওঝা মনে করেন, বৈভবের ব্যাটিংয়ে এমন কিছু বিশেষত্ব রয়েছে যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। তাঁর তুলে ধরা কারণগুলি হলো– 

১. অত্যধিক আক্রমণাত্মক মানসিকতা: পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট যে বৈভব অভিষেকের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী। প্রতিটি বলেই রান তোলার মানসিকতা বোলারদের ওপর শুরু থেকেই মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

২. শটের বৈচিত্র্য: মণীশ ওঝার মতে, বৈভবের ঝুলিতে শটের সংখ্যা অভিষেকের তুলনায় অনেক বেশি। মাঠের চারদিকে সমান দক্ষতায় শট খেলতে পারেন তিনি, যা বোলারদের ফিল্ডিং সেটআপের ক্ষেত্রে ধাঁধায় ফেলে দেয়।

৩. দ্রুত গতিতে রান তোলা: বৈভবের ব্যাটিংয়ের প্রধান অস্ত্র হলো সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলা। তাঁর ২৬৩-র ওপর স্ট্রাইক রেট প্রমাণ করে যে তিনি উইকেটে থিতু হওয়ার জন্য সময় নষ্ট করেন না।

৪. বোলারদের ওপর প্রভাব: ব্যাটার হিসেবে বৈভব ক্রিজে থাকা মানেই বোলারদের লাইন-লেংথ নষ্ট হয়ে যাওয়া। তাঁর শারীরিক ভাষা এবং পাওয়ার হিটিং ক্ষমতা অভিজ্ঞ বোলারদেরও খেই হারানোয় বাধ্য করে।

৫. নির্দিষ্ট সীমানার অভাব: কোচের দাবি, অভিষেক শর্মার ব্যাটিংয়ের একটি নির্দিষ্ট পছন্দের অঞ্চল বা 'এরিয়া' আছে। কিন্তু বৈভবের ক্ষেত্রে এমন কোনো গণ্ডি টানা অসম্ভব। উইকেটের যেকোনো প্রান্তেই তিনি বড় শট নিতে পারেন, যা তাঁকে সামলানো প্রায় অসম্ভব করে তোলে।

সব মিলিয়ে আইপিএলের এই মরশুমে বৈভব সূর্যবংশী কেবল একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে নন, বরং এক 'মডার্ন ডে পাওয়ারহাউস' হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। অভিষেকের অভিজ্ঞতা থাকলেও বৈভবের এই অপ্রতিরোধ্য গতি আগামীর ক্রিকেটে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বোলারদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ– এই কিশোর তুর্কিকে থামানোর কোনো মন্ত্র কি কারো জানা আছে?‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন