সমকালীন প্রতিবেদন : ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখটা ছিল ২০২৫ সালের ৪ মে। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৩৫০ দিন। অবশেষে ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে জয়ের দেখা পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে চলতি আইপিএলে পয়েন্টের খাতা খোলার পাশাপাশি প্লে-অফের দৌড়েও টিকে থাকল বেগুনি-সোনালি ব্রিগেড। রবিবার ইডেন সাক্ষী থাকল একদিকে যেমন ১৫ বছরের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীর দাপট, অন্যদিকে বরুণ চক্রবর্তী ও রিঙ্কু সিংয়ের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রাজস্থানের তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। সাধারণত বিরাট কোহলি বা মহেন্দ্র সিং ধোনিদের জন্য ইডেনে যে উন্মাদনা দেখা যায়, মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের জন্য ঠিক তেমনই চিত্র ধরা পড়ল। গ্যালারিতে নাইট ভক্তদের হাতেও দেখা গেল ৩ নম্বর জার্সি আর বৈভবের নাম।
টস জিতে রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে শুরু হয় বৈভব-যশস্বী ধামাকা। ওপেনিং জুটিতেই তাঁরা তুলে ফেলেন ৮১ রান। বৈভব তাঁর বিধ্বংসী মেজাজে ২৮ বলে ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কার মার। যখন মনে হচ্ছিল রাজস্থান বড় রানের দিকে এগোচ্ছে, তখনই দৃশ্যপটে আসেন বরুণ চক্রবর্তী।
‘মিস্ট্রি স্পিনার’ বরুণের একটি মাপা স্লোয়ার ডেলিভারিতেই শেষ হয় বৈভবের ইনিংস। এরপরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রাজস্থানের ব্যাটিং লাইনআপ। যশস্বী জয়সওয়াল ২৯ বলে ৩৯ রান করলেও ধ্রুব জুরেল (৫), রিয়ান পরাগ (১২) কিংবা শিমরন হেটমায়াররা (১৫) চূড়ান্ত ব্যর্থ হন। টিম শেইফার্টের চতুর স্টাম্পিং ও নাইট বোলারদের দাপটে রাজস্থান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৫৫ রানেই থমকে যায়।
কেকেআর-এর হয়ে বল হাতে সবথেকে বেশি নজর কাড়েন বরুণ চক্রবর্তী। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচ করে ৩টি মহামূল্যবান উইকেট তুলে নেন তিনি। যোগ্য সঙ্গত দেন অভিজ্ঞ সুনীল নারিন (২৬ রানে ২ উইকেট) ও তরুণ পেসার কার্তিক ত্যাগী (২২ রানে ০ উইকেট)। ত্যাগীর বোলিং ও নারিনের মাপা লেংথ রাজস্থানকে হাত খুলতে দেয়নি। যদিও ক্যামেরন গ্রিন ২ ওভারে ২৭ রান দিয়ে কিছুটা হতাশ করেন।
১৫৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে এক সময় চাপে পড়ে গিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু সেই চাপের মুখে দাঁড়িয়ে আবারও নিজের ‘ফিনিশার’ অবতার তুলে ধরলেন রিঙ্কু সিং। বেশ কিছুদিন পর তাঁর ব্যাটে পুরনো সেই ঝলক দেখা গেল। জীবনদান পেয়ে সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন তিনি। ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন রিঙ্কু, যা নাইট শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরের মাঠে এই জয় নাইট রাইডার্সের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়াল, তেমনই ইডেনের দর্শকরাও মাঠ ছাড়লেন এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ দেখার তৃপ্তি নিয়ে। রাজস্থানের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নজর কাড়লেও দিনটি ছিল শেষ পর্যন্ত বরুণ চক্রবর্তী ও রিঙ্কু সিংয়ের কামব্যাকের। এই জয়ের ফলে আগামী ম্যাচগুলোতে কেকেআর-এর লড়াই যে আরও জমে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন