Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

ভোটে জালিয়াতি রুখতে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার দাবিতে জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে

 

সমকালীন প্রতিবেদন : দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কলঙ্কমুক্ত করতে বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে আঙুলের ছাপ অথবা চোখের মণি পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করার আর্জি জানিয়ে শীর্ষ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি শুনতে সন্মতি প্রদান করেছে।

আইনজীবী অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলায় দাবি করা হয়েছে যে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বর্তমানে যে পরিচয় যাচাই পদ্ধতি রয়েছে, তাতে ‘ভূতুড়ে’ বা ভুয়ো ভোটারদের পুরোপুরি রোখা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর মতে, প্রতিটি বুথে যদি বায়োমেট্রিক বা আইরিস স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে পরিচয় ভাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া বা একজনের নামে একাধিক ভোট দেওয়ার মতো অসাধু উপায়গুলি চিরতরে বন্ধ হবে।

আদালতে সওয়াল করার সময় মামলাকারী জানান, "পরিচয় ভাঁড়ানো, ঘুষ বা প্রভাব খাটানোর ফলে নির্বাচনী ব্যবস্থার সততা নষ্ট হচ্ছে, যার মাসুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিককে।" মামলাটির গুরুত্ব বিচার করে শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে নোটিস পাঠিয়ে তাদের মতামত জানতে চেয়েছে। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে যে রাজ্যগুলিতে ভোট প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা বাস্তবসম্মত নয়।

বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন প্রক্রিয়া মাঝপথে থাকায় এখনই কোনো নতুন কারিগরি ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আগামী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনগুলির ক্ষেত্রে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মতামত সুপ্রিম কোর্টের।

মামলাকারীও আদালতের এই যুক্তিতে সন্মত হয়ে জানিয়েছেন, তিনি এখনই এটি বলবৎ করার দাবি তুলছেন না। বরং দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার হিসেবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানাচ্ছেন। এর ফলে আগামীর নির্বাচনে ভোটার কার্ডের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন এই ব্যয়বহুল ও পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে কতটা ইতিবাচক সাড়া দেয়।‌‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন