Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

প্রবল ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঠাকুরনগরে জনজোয়ার: বারুণী স্নানে মাতলেন লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্ত

 

Motua-Mela

সমকালীন প্রতিবেদন : প্রাকৃতিক দুর্যোগকে তুচ্ছ করে ভক্তি আর আবেগের জোয়ারে ভাসল উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি। যুগাবতার হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আয়োজিত প্রথাগত ‘মহাপুণ্য স্নান’-এ অংশ নিতে গতকাল বিকেল থেকেই মতুয়া ভক্তদের ঢল নেমেছে ঠাকুরবাড়ির আঙ্গিনায়। গতরাতের প্রবল ঝড়-বৃষ্টি সাময়িকভাবে উৎসবে ছন্দপতন ঘটালেও, আজ ভোরের আলো ফুটতেই সেই বাধা জয় করে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থী শামিল হলেন বারুণী মেলায়।

গতরাতে ঠাকুরনগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আচমকা কালবৈশাখীর দাপটে পুণ্যস্নানের প্রস্তুতিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। কিন্তু ভক্তদের অটুট বিশ্বাসের সামনে আবহাওয়া হার মানতে বাধ্য হয়। মঙ্গলবার সকাল হতেই ঠাকুরবাড়ির সংলগ্ন ‘কামনা সাগর’-এ পুণ্যস্নানের জন্য ভিড় উপচে পড়ে। দূর-দূরান্ত, এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও কয়েক লক্ষ মতুয়া অনুগামী ডঙ্কা ও নিশান নিয়ে উপস্থিত হন। প্রথা মেনে কামনা সাগরে স্নান সেরে ভক্তরা সারিবদ্ধভাবে মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন এবং পরম আরাধ্য হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করে নিজেদের মনস্কামনা জানান।

যুগাবতারের এই জন্মতিথি উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণে সেবার মহোৎসব চলছে। যৌথ মেলা কমিটির পক্ষ থেকে গত দুই দিন ধরে বিরামহীনভাবে অগণিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। কমিটির সদস্যরা জানান, বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও যাতে কেউ প্রসাদ থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

এবারের মেলায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। লাখো মানুষের ভিড় সামলাতে গোটা মেলা চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ড্রোন নজরদারি থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন– সব মিলিয়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নিখোঁজ অনুসন্ধান কেন্দ্রের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটা কমেছে। সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার ফলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ও নির্বিঘ্নে এগিয়ে চলছে এই মিলন মেলা।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন