সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের সাংবিধানিক সদর দপ্তর ‘রাজভবন’ এবার পেল নতুন নাম–‘লোক ভবন’। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে শনিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। কলকাতা ও দার্জিলিং– উভয় রাজভবনের নাম ফলক বদলে দেওয়া হয়েছে। বদলানো হয়েছে সরকারি লেটারহেডও। রাজ্যপালের এক্স হ্যান্ডেলের নাম ইতিমধ্যেই ‘লোক ভবন’ করা হয়েছে এবং সেখানেই ঘোষণাও করা হয়েছে নাম পরিবর্তনের তথ্য।
নতুন নাম উন্মোচনের অনুষ্ঠানে স্বয়ং রাজ্যপাল উপস্থিত ছিলেন। ভিডিয়োয় দেখা যায়, তিনি প্রথমে রাজভবনের ভিতরে স্থাপন করা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবির সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে প্রণাম জানান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিকে। তার পর অশোকস্তম্ভের নীচে সোনালি অক্ষরে লেখা ‘রাজভবন কলকাতা’-র ‘রাজ’ অংশটি খুলে সেখানে নতুন করে বসান ‘লোক’। সেই মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজভবনের আধিকারিক ও নিরাপত্তারক্ষীরা।
রাজ্যপাল দীর্ঘদিন ধরেই রাজভবনের নাম থেকে ঔপনিবেশিকতার ছাপ মুছে ফেলে এমন একটি নামের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি হবে। তাঁর বক্তব্য– রাজভবন জনগণের জন্য, তাই তার নামেও যেন মানুষের উপস্থিতি প্রতিফলিত হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২৫ নভেম্বরের নির্দেশিকায় দেশজুড়ে রাজভবন ও রাজনিবাসগুলির নাম যথাক্রমে ‘লোক ভবন’ ও ‘লোক নিবাস’-এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সেই নির্দেশ মেনেই পশ্চিমবঙ্গে নাম পরিবর্তন কার্যকর হল।
শনিবার ঘোষণার পরে রাজ্যপাল কলকাতার রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন। চায়ের দোকানে মাটির ভাঁড়ে চা পান করেন এবং ছোটদের সঙ্গে সময় কাটান। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘জনরাজভবন’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল এই ভবনকে প্রাসাদের দূরত্ব থেকে বের করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে সামাজিক সংকট– গত তিন বছরে রাজভবন সরাসরি জনসেবায় যুক্ত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্যপালের অনুরোধে প্রতীকী চাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। রাজ্যপালের দাবি, সেই দিন থেকেই ‘জনরাজভবন’-এর ভাবনা বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে। এরপর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও সক্রিয় হয়েছে।
রাজ্যের প্রশাসনিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মতভেদ গত কয়েক মাসে বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। বিল অনুমোদন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অশান্তি– একাধিক ইস্যুতে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘রাজভবন’ থেকে ‘লোক ভবন’-এ নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এসবের বাইরে দাঁড়িয়ে শনিবারের অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল– রাজভবন আর শুধু ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের প্রতীক নয়; তা হয়ে উঠছে জনগণের জন্য উন্মুক্ত, জনমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। নতুন পরিচিতিতে ‘লোক ভবন’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনার মধ্য দিয়ে সেই ভাবনারই প্রতিফলন ঘটল।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন