Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

আইপিএলে একাধিক বিতর্কের মাঝে কড়া শৃঙ্খলার বার্তা আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমালের

 

IPL-Chairman

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ যত এগোচ্ছে, মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাঠের বাইরের বিতর্কও। রিল সংস্কৃতি, অফ-ফিল্ড অনিয়ম থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের হোটেল রুমে শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক অভিযোগ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নজরে এসেছে। এই উত্তপ্ত আবহের মাঝেই আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল ক্রিকেটারদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং বোর্ডের কড়া অবস্থান নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত জানালেন। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়া আদতে মানুষের বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকে নষ্ট করছে।

সম্প্রতি আইপিএলের মাঝপথেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির জন্য ৭ পাতার একটি কঠোর নির্দেশিকা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর জারি করেছে বিসিসিআই। এই নির্দেশিকায় খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো মারাত্মক ফাঁদ ও সাইবার ঝুঁকি থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সফরে তাঁদের বান্ধবীদের নিয়ে যাওয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনবরত রিল বানানো ও ভ্লগিং করার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, টিম ম্যানেজারের অনুমতি ছাড়া কোনো অবস্থাতেই হোটেল রুমের বাইরে যাওয়া যাবে না এবং কোনো অপরিচিত মানুষকে রুমে আনা যাবে না।

চলতি মরশুমে বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার পরই বোর্ডকে এই কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। যেমন, রাজস্থান রয়্যালস-এর ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউটে বসে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায় দলের ম্যানেজার রোমি ভিন্ডারকে। এরপর আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয় যখন রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে ড্রেসিংরুমের ভেতরেই ই-সিগারেট বা ভেপিং করতে দেখা যায়, যা ভারতে আইনত নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে, পাঞ্জাব কিংস দলেও একের পর এক অফ-ফিল্ড বিতর্ক এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাহীনতার বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। দলের তারকা পেসার অর্শদীপ সিংকে ম্যাচ ও সফরের মাঝেই অতিরিক্ত ভ্লগিং করার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

ধরমশালায় পাঞ্জাব কিংস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচ চলাকালীন এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। তিনি সাফ জানান, বিসিসিআই ক্রিকেটারদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চায় না, তবে খেলার গরিমা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।

অরুণ ধুমাল বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যা কিছু দেখা যায়, তার সবটার সত্যতা থাকে না। কিন্তু টুর্নামেন্টের সততা ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। অনেক সময় পর্দায় যা দেখানো হয়, বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হয়। তাই সবকিছু অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখা দরকার।”

বোর্ডের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে তিনি যোগ করেন, “এটা কোনো রাতারাতি তৈরি হওয়া নতুন নিয়ম নয়। এই নিয়মগুলো আগে থেকেই ছিল। কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছিল, তাই আমরা শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে পুরনো নিয়মগুলো আবার মনে করিয়ে দিয়েছি। দলগুলো তাদের দায়িত্ব জানে, কারণ এর সাথে পুরো আইপিএলের সম্মান জড়িয়ে রয়েছে।”

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ক্ষোভ উগরে দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “আমার মতে, সোশ্যাল মিডিয়া হলো বর্তমান যুগের সবচেয়ে ‘অসামাজিক’ জিনিস। আমি ব্যক্তিগতভাবে এর একদম পক্ষে নই। একজন খেলোয়াড় বা সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর বেশি জোর দেওয়া উচিত।”

ভবিষ্যতে আইপিএল চলাকালীন ক্রিকেটারদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে ধুমাল ইতিবাচক সুরে বলেন, “না, আমরা তা বন্ধ করব না। মানুষ সময়ের সাথে নিজেই এটা বুঝতে পারবে। প্রযুক্তির আকর্ষণ সাময়িক হতে পারে, কিন্তু দিনশেষে মানবিক মূল্যবোধ এবং বাস্তব জীবনের সম্পর্কই সবচেয়ে মূল্যবান। আশা করি, ক্রিকেটাররাও দ্রুত এই বাস্তবটা উপলব্ধি করবেন।”‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন