Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২ মে, ২০২৬

বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারতের ‘সুরক্ষা কবচ’: দেশজুড়ে সফলভাবে পরীক্ষিত হলো ‘সেল ব্রডকাস্টিং’ সতর্কবার্তা

 

Cell-Broadcasting

সমকালীন প্রতিবেদন : শনিবার দুপুরে হঠাৎই দেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মোবাইল ফোনে বেজে উঠল তীব্র সাইরেন। সাইলেন্ট মোডে থাকা ফোনেও কম্পন আর উচ্চশব্দের সেই সতর্কবার্তায় মুহূর্তের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে ‘একস্ট্রিমলি সিভিয়ার অ্যালার্ট’ বা অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভারত সরকার এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সেল ব্রডকাস্ট’ বা জরুরি সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সফল মহড়া চালাল।

শনিবার, ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যৌথভাবে এই অত্যাধুনিক পরিষেবার সূচনা করেন। এই প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি হলো ‘সচেতন’ নামক একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের মানদণ্ড মেনে ভারত সরকারের টেলিকম বিভাগের গবেষণা সংস্থা ‘সি-ডট’ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই ভারতের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

এতদিন দুর্যোগের বার্তা মূলত সাধারণ এসএমএস-এর মাধ্যমে পাঠানো হতো। তবে পরিসংখ্যান বলছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ১৯টিরও বেশি ভাষায় এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪০০ কোটিরও বেশি বার্তা পাঠালেও তা সবসময় সঠিক সময়ে মানুষের নজর কাড়তে পারেনি। নতুন ‘সেল ব্রডকাস্ট’ প্রযুক্তি সাধারণ বার্তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। 

এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, ফোন সাইলেন্ট বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে থাকলেও এটি তীব্র শব্দে বেজে উঠবে। মেসেজ ইনবক্সে যাওয়ার বদলে সরাসরি স্ক্রিনের ওপর বড় হরফে ফুটে উঠবে, যা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। সাধারণ এসএমএস জ্যাম বা নেটওয়ার্ক ভিড়ে আটকে গেলেও এই সিস্টেম নির্দিষ্ট এলাকার সমস্ত হ্যান্ডসেটে মুহূর্তের মধ্যে সংকেত পৌঁছে দিতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প, সুনামি, বজ্রপাত বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি গ্যাস লিক বা রাসায়নিক দুর্ঘটনার মতো মানবসৃষ্ট বিপর্যয় রুখতে এই প্রযুক্তি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে চলেছে। কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বিপদ ঘনিয়ে এলে সেই অঞ্চলের প্রতিটি সচল মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এর জন্য ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনও সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে না।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবারের এই বার্তাটি ছিল নিছকই একটি পরীক্ষা। এর ফলে সাধারণ মানুষের কোনও পদক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। এই সফল মহড়া প্রমাণ করল যে, জরুরি পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে দ্রুত সতর্ক করতে ভারত এখন প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দিয়ে বড় কোনও বিপর্যয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনা।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন