সমকালীন প্রতিবেদন : যশোর রোডে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে প্রাণ হারানো যুবক বাপন বিশ্বাসের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার মৃতের পরিবারের হাতে চার লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। এদিন বনগাঁ মহকুমা শাসকসহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
চেক হস্তান্তরের পর খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্ঘটনার পর আমি পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারের হাতে চার লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বাপন বিশ্বাসের ছোট ভাই ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে আমি ব্যক্তিগতভাবে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি, পরিবারের বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে মৃতের পরিবারের কোনো সদস্যকে আপাতত অস্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিন যশোর রোডের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গাছ অপসারণের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গাছ কাটার কাজ শুরু হবে এবং প্রথম পর্যায়ে সেই কাজ বনগাঁ থেকেই শুরু করা হবে। আপাতত ১১১টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি পর্যায়ক্রমে কেটে ফেলা হবে।
বনগাঁর মহকুমা শাসক শুভম মৌর্য জানান, যশোর রোডের পাশে থাকা প্রায় চার হাজারটি গাছকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টি গাছ মৃতপ্রায়। প্রাথমিকভাবে ১১১টি গাছ কেটে ফেলার জন্য টেন্ডার ডাকার কাজ শেষ হয়েছে। এগুলি প্রথমে কেটে ফেলা হবে। এর পরের ধাপে আরো ৩৮৯টি গাছের টেন্টার ডেকে সেগুলিও কাটা হবে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৃত বাপন বিশ্বাসের বাবা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং মা সান্তনা বিশ্বাস। তাঁরা বলেন, “বাপন আমাদের সংসারের প্রধান ভরসা ছিল। তাঁর অকাল মৃত্যুতে আমরা বিপদগ্রস্ত। এই অবস্থায় সরকার যতটুকু আমাদের জন্য করছে, তাতেই আমরা সন্তুষ্ট।”
উল্লেখ্য, জুলাই মাসের ৫ তারিখ দুপুরের পর বনগাঁর যশোর রোডে একটি গাছের ডাল ভেঙে পড়ে গুরুতর আহত হন বাপন বিশ্বাস। পরে বনগাঁ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে যশোর রোডের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয় এবং এবার সেগুলি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন