সমকালীন প্রতিবেদন : রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এবার এক বিজেপি নেত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগদা থানার কোনিয়ারা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চুয়াটিয়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত রীতা বাকচী বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্য এবং স্থানীয় বিজেপি নেত্রী হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াটিয়া এলাকার একটি দোকানে নিজের কাজে গিয়েছিলেন রীতা বাকচী। অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী বনশ্রী সরকার সেখানে উপস্থিত হয়ে রীতা দেবীকে উদ্দেশ্য করে বিজেপি দলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অশালীন ও অসম্মানজনক মন্তব্য করতে শুরু করেন। রীতা বাকচী এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় বনশ্রী সরকার ও তাঁর দলবল রীতা দেবীর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে মারধর করতে করতে পাশের একটি আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখেন। সেখানেও তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি আক্রান্তের।
চিৎকার ও হট্টগোল শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তৃণমূলের হাত থেকে আক্রান্ত রীতা বাকচীকে উদ্ধার করেন। তাঁকে প্রথমে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। তাঁর মাথা বারে বারে দেওয়ালে আঘাত করায় মাথায় চোট পেয়েছেন তিনি।
আক্রান্ত নেত্রীর স্বামী শক্তি বাকচী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “বনশ্রী সরকার যেভাবে আমার স্ত্রীর গলা চেপে ধরেছিল, স্থানীয় মানুষ সময়মতো ছুটে না এলে আজ বড়সড় অঘটন ঘটে যেতে পারত। আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই। আক্রমনের সময় যথেষ্ট হিংস্র অবস্থায় ছিল বনশ্রী সরকার।”
অন্য দিকে, এই ঘটনার খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপির নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে তৃণমূল এখন হিংসার পথ বেছে নিয়েছে। বিজেপি নেতা, কর্মীদের কণ্ঠরোধ করতে এবং ভয় দেখাতে এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। বাগদা এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করার সংস্কৃতি নতুন নয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুয়াটিয়া এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন